Sponser

প্রিয় সীতা পাহাড়!

ভ্রমণ
PUBLISHED: December 23, 2020

আমার খুব পছন্দের বেড়াবার জায়গাগুলোর একটি কাপ্তাই। অনেকবারই গিয়েছি সেখানে। এ বাবদ ধন্যবাদ পাওনা মাহফুজ মামার। বন বিভাগের চাকুরে মাহফুজ মামা আমার রক্ত সম্পর্কের মামা নন, সরওয়ার ভাইয়ের মামা। সে সূত্রে আমারও। মাহফুজ মামা কিংবা পান্না মামির সঙ্গে আমার সম্পর্কটাও আপন মামা-মামির চেয়ে কম নয় মোটেই। কাপ্তাইয়ের জঙ্গল-পাহাড় নিয়ে অনেক কথাই লেখার ইচ্ছা আছে। কী দিয়ে শুরু করব, ভাবতে গিয়ে বেগ পেতে হয়নি একটুও। সেটা সীতা পাহাড়।

মামা তখন রাম পাহাড় বিটের চার্জে। এক সকালে কোনোরকম জানান না দিয়েই হাজির হয়ে গেলাম তাঁর ডেরায়, সঙ্গী সরওয়ার ভাই। সালটা সম্ভবত ২০০৭-০৮। কর্ণফুলী নদীর তীরেই রাম পাহাড় বিট অফিস। সেখানেই বনকর্মীদের থাকার ব্যবস্থা। প্রথমে আমাকে টানল নদী। কর্ণফুলীর কথা কত্তো শুনেছি, দেখেছি। তবে যেখানে উঠেছি তার ঠিক সামনে দিয়েই দুরন্ত গতিতে পাহাড়ি নদীটাকে বয়ে যেতে দেখে কেমন একটা ঘোরের মতো লাগছিল। বিকালের দিকে নদীর পাড়ে গিয়ে বসতেই চোখ ছানাবড়া, তবে এবার নদী নয় অবাক হই কর্ণফুলীর তীর থেকেই উঠে যাওয়া অদ্ভুত সুন্দর পাহাড়টা দেখে।

উঁচু, সবুজ এক পাহাড়। শরীরে গায়ে গা ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বড়-ছোট, হরেক জাতের গাছপালা। দূর থেকে চোখ বুলিয়েও বুঝতে অসুবিধা হলো না, কোনো কোনোটা শতবর্ষের সীমানা পেরিয়েছে বহু আগে। গাছের গা থেকে বেরিয়ে আসা অজস্র লতা ও ঝুড়ি পাহাড়ি জঙ্গলটিকে করে তুলেছে আরো দুর্ভেদ্য। আমাকে ও সরওয়ার ভাইকে মুগ্ধচোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে মামা বললেন, এটা সীতা পাহাড়। এখন আর কী দেখছ, এক সময় আরো গভীর ছিল এই অরণ্য, আদিম সব গাছপালায় ঠাসা ছিল। কালের চক্রে, মানুষের চাহিদা মেটাতে গিয়ে এদেশের আরো অনেক বনের মতোই আগের জৌলুস হারিয়েছে জঙ্গলটা।

পরের দুটো দিন আশপাশের পাহাড়, মারমা পাড়া-বাজার এসব জায়গায় চক্কর মারলাম। আর সুযোগ পেলেই কর্ণফুলীর তীরে বসে থাকি। ছোট ছোট নৌকা নিয়ে জেলেদের মাছ ধরা, জলে ছোট ছোট ছেলেদের দুরন্তপনা দেখি। কখনো হঠাৎ নদীর পানি ভেদ করে লাফিয়ে উঠে শুশুক। প্রতিদিনই নিয়ম করে গোসল করি খরস্রোতা কর্ণফুলীতে। তবে নিজের সাঁতারের দৌড় জানা থাকায় ওপাশে সীতা পাহাড় পর্যন্ত এগুই না। রাম পাহাড় বিটে একটা সার্চ লাইট আছে। রাতে পাহারাদার বনকর্মী এটার আলো ফেলে নদীর জলে, চোরাইকাঠ বোঝাই নৌকার খোঁজে। আমিও ঠায় বসে থাকি যদি এর আলোয় পানি খেতে আসা কোনো বন্যপ্রাণী ধরা দেয়। তো শেষশেষ ধৈর্যের ফল মিলল। সার্চ লাইটের আলোয় তৃতীয় রাতে আবিষ্কার করলাম নদীর ওপাড়ে, সীতা পাহাড়ের দিকটায় জ্বলজ্বলে এক জোড়া চোখ। আলোটা স্থির করতেই অন্ধকারের রাজ্যে আবছাভাবে দেখা গেল শরীরটা। পরমুহূর্তেই ওটা হাওয়া। তবে ততক্ষণে পরিচয় জানা হয়ে গিয়েছে আমার, মেছো বাঘ। হয় পানি খেতে নতুবা মাছ শিকারে বেরিয়েছিল।

 
পরের দিন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে নদীর কিনারে দাঁড়িয়ে দাঁত মাজছি। কী মনে করে তাকালাম সীতা পাহাড়ের চূড়ায়। স্থির হয়ে গেলাম। গাছে ছোট কয়েকটা বিন্দুর মতো ছুটাছুটি করছে। একটু ভালোভাবে খেয়াল করতেই বুঝে গেলাম, বানর কিংবা হনুমানের দল, ডালে ডালে নাচানাচি করছে।
একটু পরই মামা এসে সুসংবাদ দিলেন। আজ তাঁরা টহল দিতে সীতা পাহাড়ে উঠবেন। চাইলে আমরাও সঙ্গী হতে পারি। খুশি মনে সম্মতি জানিয়ে দিয়ে, হুটহাট নাস্তা সেরে নিলাম। সকাল সকালই বেরিয়ে পড়লাম। দলের সদস্য সংখ্যা পাঁচ। সরওয়ার ভাই এবং আমি ছাড়াও দলে আছে মাহফুজ মামা, নূরে আলম ফরেস্টার ও একজন বনপ্রহরী।
ফরেস্টের নৌকায় করে প্রথম কর্ণফুলীর ডান তীরে পৌঁছলাম আমরা। বলা চলে এর মাধ্যমে প্রথম সীতা পাহাড়ের সীমানায় পৌঁছালাম। নদীর এ পাশে সীতা আর ওপাশে রাম পাহাড়। হিন্দু ধর্মালম্বীদের কাছে সীতা পাহাড় বড় পবিত্র জায়গা। যতোটা শুনেছি, কিংবদন্তি আছে, রাবন সীতাকে অপহরণ করে কর্ণফুলীর তীরে এই দুর্গম পাহাড়েই নিয়ে এসেছিল। তাই পাহাড়টির এমন নাম। অনেকেই এই জায়গাটিতে পূজা দিতে আসে। কাছ থেকে একই রকম গহীন, রহস্যময় মনে হলো অরণ্যটিকে।
একটা বাঁশঝাড় থেকে বনপ্রহরী, নামটা মনে নেই, কয়েকটা বাঁশ কেটে এনে আমাদের হাতে ধরিয়ে দিল। মামা বললেন, পথ বড় খাড়া, উঠতে কাজে লাগবে। তো শুরু হলো পাহাড় বাওয়া। তখনো খুব বেশি পাহাড়ে উঠার অভিজ্ঞতা নেই, উঠলেও সেটা সিলেট বিভাগের ছোট আকারের পাহাড়। শুরুর দিকে জঙ্গলের রূপ দেখতে দেখতে বেশ অনায়াসে উঠছিলাম। বড় গাছের পাশাপাশি, কোথাও ঝোপ কোথাও গুল্মের অরণ্য। মামা যদিও বলেছেন আগের সেই সীতা পাহাড় নেই, তারপরও আমি যেন আদিম এক অরণ্যের আভাস পাচ্ছিলাম। সরওয়ার ভাইয়ের হাতে ক্যামেরা, কখনো সুযোগ পেলেই শাটার টিপছেন। কিছুটা উঠতে না উঠতেই পথটা অনেক খাঢ়া হয়ে গেল, মনে একটা কু গাইছিল। সরওয়ার ভাইও দু-একবার স্বগতোক্তি করল, পথটা এতাটা ঝামেলার বুঝতে পারি নাই! এভাবে বেশ কতকটা ওঠার পর পথ আরো খাড়া, অনেকটা সিধা উঠে গেছে। এই দূরারোহ পথ ধরে বেশ কতকটা এগুনোর পর মনে হলো আর ওঠা আমার সাধ্যের বাইরে। সারা শরীর ঘামে ভিজে গেছে। ঘন ঘন শ্বাস পড়ছে। অবশ্য অন্যদের অবস্থাও খুব ভালো না। মামাকে বললাম আমাকে এখানেই রেখে যান, ফেরার পথে নিয়ে যাবেন।
আমরা পাঁচজনই এবার পাহাড়ের গায়ে একটু সমতল মতো জায়গা দেখে বসে পড়লাম। এবার মুখ খুলল নূরে আলম, মামার দিকে তাকিয়ে বলল, ভাই এইটা কী করলেন। আগেই কইছিলাম, নতুন মানুষ সবচেয়ে খাড়া পথটা দিয়া না আনতে।
তখনই রহস্যটা পরিষ্কার হলো আমার এবং সরওয়ার ভাইয়ের কাছে। আগেই শুনেছিলাম সীতা পাহাড়ে ওঠার খুব ভয়ংকর একটা শর্ট-কাট আছে, এতোটাই খাড়া যে অভ্যস্থ লোক ছাড়া ওঠা মুশকিল। মামা সময় বাঁচাতে ওই পথ দিয়ে নিয়ে এসেছেন আমাদের। সরওয়ার ভাই মামাকে এবার চেপে ধরলেন এই রাস্তা দিয়ে আমাদের আনায়। মামা গাইগুই করলেন, ভাবছিলাম আমার বুড়ো শরীরে যদি পারি, তোমরা পোলাপান মানুষ…।



যা হোক, একটু পর সাহস ফিরে পেলাম। এর মধ্যে নূরে আলম আবার বলে ব্সল, আমাকে ছাড়া যাবে না। প্রয়োজনে কাঁধে করে তুলবে। এখানে নূরে আলম সম্পর্কে দু-একটা কথা বলে নেওয়া ভালো। বয়সে আমার থেকে সম্ভবত এক-দুই বছরের ছোট। ঠোঁট-কাটা স্বভাবের হলেও খুব আন্তরিক। আমাদের জন্য হাসিমুখে নিজের রুম ছেড়ে দিয়েছিল। পরে যখন একা গিয়েছি তখনো মামার রুমে না থেকে ওর সঙ্গেই থাকতাম। এখন বান্দরবানের লামার এক জঙ্গলের দায়িত্বে আছে, রেঞ্জার।
যা হোক নূরে আলম কাঁধে তুলতে হলো না। ওদের সঙ্গে তাল মিলিয়েই উঠতে লাগলাম পাহাড়ে। পথ খাড়া হওয়ায় বিশ্রাম নিচ্ছি আমরা মাঝে-সাঝে। হঠাৎ করেই উঠে এলাম পাহাড়ের চূড়ায়। অদ্ভুত একটা অনুভূতি হচ্ছিল মনে। সীতা পাহাড়ের উচ্চতা ১৮০০-১৯০০ ফুটের মতো। পর্বতারোহীদের বিবেচনায় ছেলে খেলা। তবে কঠিন একটা পথে এখানে উঠেই কেমন রাজা রাজা মনে হচ্ছিল নিজেদের। চূড়ায় জঙ্গল খুব ঘন নয়। তবে এক পাশে কলাগাছ আছে প্রচুর। একটা খোলামেলা জায়গা দেখে বসে পড়লাম। সঙ্গে আনা কলা-পাউরুটি দিয়ে নাস্তা সারলাম। এর ফাঁকেই মামা জানালেন ১৯৪৫ সালেই সীতা ও রাম পাহাড়ের বেশ কতকটাসহ আরো কিছু জঙ্গলকে সংরক্ষিত অরণ্য ঘোষণা করা হয়, গোটা জায়গাটাই এখন পড়েছে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের সীমানায়। চারপাশ ঘুরেফিরে দেখতে লাগলাম। পাহাড়ের বুক চিরে কঠিন সব বাঁক নিয়ে বয়ে চলা কর্ণফুলীকে ওপর থেকে এতোটাই সুন্দর লাগছিল চোখ সরাতে পারছিলাম না । মামা জানালেন রাতে এখান থেকে এক দিকে রাঙ্গামাটি শহরের এবং অপর দিকে চট্টগ্রাম শহরের আলো দেখা যায়। আমরা দিনে রাঙ্গামাটি ও চাটগাঁর রাস্তা দেখলাম, পিচ ঢালা পথে আলো পড়ে ঝিকিমিকি তুলছিল।
সীতা পাহাড়ের গায়ে কয়েকটা মারমা পাড়া আছে। ওপর থেকে আমরা একটা পাড়ার আভাস পাচ্ছিলাম। মানুষ-জনও দেখছিলাম। একটা বুনো পথ ধরে নামতে শুরু করলাম আমি আর সরওয়ার ভাই, পাড়াটার দিকে। তখনই চোখ আটকে গেল এক দৃশ্যে। এক মারমা নারী নামছে নীচে, মাথায় চাপানো মাটির বড় হাঁড়িটা জানিয়ে দিচ্ছে ঝরনা থেকে পানি আনতে যাচ্ছে। ভাবছিলাম, যে খাড়া পথে লাঠি দিয়ে উঠতেই আমাদের নাভিশ্বাস উঠেছে, সেখানে ঢাল বেয়ে অবলীলায় নামছে তরুণী, মাথায় বিশাল এক হাঁড়ি নিয়ে, একটু পরে যখন ফিরবে তখন আবার এটা থাকবে জলে পূর্ণ! পরে অবশ্য নিচ থেকে সীতা পাহাড়ে এই দৃশ্য আরো দেখেছি।
দূর থেকে মারমাদের পাড়া দেখলাম। তবে কাছে গেলাম না আজ। পাখি, কাঠবিড়ালি, বানরেই সীমাবদ্ধ থাকল বন্যপ্রাণী দেখা। দিনের এই সময় অন্য কিছুর আশা করাও বোকামি। তবে শুনেছি সীতা পাহাড়ে বন ছাগল বা সেরো আছে। পাহাড়ি খাড়া পথে যারা হেঁটে বেড়ায় অবলীলায়। বেশ কতকটা সময় ছিলাম পাহাড়ের চূড়ায়। তারপর নামার পালা। খাড়া পথে হাড়-গোর ভাঙার আশংকা থাকলেও কষ্ট হলো কমই। যা থাকেব কপালে বলে, অনেকটা হেঁচড়ে নামলাম বেশিরভাগ রাস্তা। স্বাভাবিকভাবেই সময়ও লাগল অর্ধেক। যখন নিচে নেমে ওপরের ঘন গাছপালায় ঠাসা পাহাড়টার দিকে তাকালাম কেমন মায়া হলো।
এরপরে আরো বেশ কয়েকবার গিয়েছি কাপ্তাইয়ে। থেকেছি রাম পাহাড় বিটেও। নিচের থেকে সীতা পাহাড়কে দেখেছি, মুগ্ধ হয়েছি, যখন ভোর হই হই তখন পাহাড় থেকে ভেসে এসেছে মায়া হরিণ বা বার্কিং ডিয়ারদের কুকুরে গলায় চিৎকার। এক রাতে ঢানক! ঢানক! একটা কর্কশ আওয়াজও ভেসে এসেছিল মায়াবী পাহাড়টা থেকে, অনুমান করেছিলাম বিশালদেহী সম্বারের ডাক, তবে সীতা পাহাড়ে আর ওঠা হয় নি! এখন বড় আফসোস হয়।
সীতা পাহাড় বাইতে একটু কষ্ট হলেও ওপরে একবার উঠে গেলে এতো ভালো লাগবে নিজের পিঠটা নিজেই একবার চাপড়ে দেবেন। খাড়া পথ দিয়ে ওঠায় রোমাঞ্চ এবং ঝুঁকি দুুটিই বেশি। শেষ করার আগে ওই পুরনো কথাটা বলতে হচ্ছে আবারো, যদি বন-পাহাড়ের পরিবেশ ঠিক রাখতে পারেন, ওখানকার বন্যপ্রাণীদের কষ্ট না দিয়ে চলতে পারেন, তবেই যাবেন, নতুবা…
অনেক আগের তোলা ছবি, সীতা পাহাড়ের সঙ্গে সম্ভবত রাম পাহাড়েরও দু-একটা ছবি থাকতে পারে।
 
Recommended For You

31 thoughts on “প্রিয় সীতা পাহাড়!

  1. BbdfZora says:

    cost of viagra at costco http://gensitecil.com/ get viagra prescription online

  2. Rebfeduff says:

    cialis ordering https://rcialisgl.com/ cheap cialis online generic

  3. Anoospali says:

    viagra short term effects https://llviagra.com/ viagra dangereux

  4. What’s up to all, the contents present at this site are really awesome for people experience, well, keep up the good
    work fellows. http://cavalrymenforromney.com/

  5. I do agree with all the ideas you have offered to
    your post. They’re very convincing and can definitely work.

    Still, the posts are very quick for beginners.
    Could you please prolong them a little from subsequent time?
    Thanks for the post. https://tadalafil.cleckleyfloors.com/

  6. I for all time emailed this blog post page to all my associates, for the reason that if like to read it after that my friends will too. http://antiibioticsland.com/Augmentin.htm

  7. spaliDev says:

    cialis from india online pharmacy [url=https://cjepharmacy.com/ ]online pharmacy australia free delivery[/url] most trusted online pharmacy

  8. eduffloh says:

    purchase cialis with paypal [url=https://rcialisgl.com/ ]generic cialis 30 pills 20mg[/url] cialis patient assistance program

  9. Do you have any video of that? I’d like to find out
    some additional information. https://atadalafil.online/

  10. It’s actually a cool and useful piece of information. I am glad that you shared this helpful info with us.
    Please stay us informed like this. Thanks for sharing. https://canadiandrugstorerx.com/weight-loss/xenical.html

  11. I simply couldn’t depart your site prior to suggesting that I really enjoyed the
    standard info an individual supply for your guests? Is going to
    be again frequently in order to check up on new posts http://cialllis.com/

  12. When someone writes an piece of writing he/she keeps the plan of a user in his/her
    mind that how a user can understand it. So
    that’s why this piece of writing is great. Thanks! http://vidalista.buszcentrum.com/

  13. Spot on with this write-up, I actually feel this amazing site needs a great deal more attention. I’ll probably be back again to read more, thanks for the advice! https://aurogra.buszcentrum.com/

  14. Thanks a bunch for sharing this with all folks you actually understand what you
    are talking about! Bookmarked. Kindly additionally seek advice from
    my site =). We will have a link trade agreement among us http://hydroxychloroquined.online/

  15. eduffVed says:

    low cost cialis [url=https://krocialis.com/ ]cost of cialis with insurance[/url] indian pharmacy cialis

  16. Its not my first time to visit this web page, i am visiting this web site
    dailly and get nice information from here every day. http://droga5.net/

  17. What’s up friends, how is everything, and what you desire to say about this piece of
    writing, in my view its really remarkable in favor of
    me. https://www.herpessymptomsinmen.org/where-to-buy-hydroxychloroquine/

  18. What’s up to all, the contents existing at this web site are
    truly awesome for people experience, well, keep up the good work fellows. https://hydroxychloroquinee.com/

  19. Today, while I was at work, my sister stole my iphone and tested to see if it can survive
    a twenty five foot drop, just so she can be a youtube sensation. My iPad is now destroyed and she has 83 views.
    I know this is totally off topic but I had to share it with someone! http://antiibioticsland.com/Flagyl_ER.htm

  20. Right now it sounds like WordPress is the preferred blogging platform available right now.
    (from what I’ve read) Is that what you’re using on your blog? https://amstyles.com/

  21. Hello my loved one! I wish to say that this post is awesome,
    nice written and include almost all important infos.
    I’d like to look more posts like this . https://hhydroxychloroquine.com/

  22. I always emailed this web site post page to all my associates, for
    the reason that if like to read it next my
    links will too. http://cleckleyfloors.com/

  23. Thanks for a marvelous posting! I seriously enjoyed reading it,
    you will be a great author. I will make sure to bookmark your blog and may come
    back sometime soon. I want to encourage yourself to continue your
    great job, have a nice day! http://herreramedical.org/azithromycin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *