Sponser

মহামারী স্তম্ভ

আশ্চর্য
PUBLISHED: September 17, 2020

যুদ্ধে বিজয়ের উদযাপন হয় খুব ঘটা করে। তবে অন্য কোনো ধরনের শত্রু যেমন মাহামারীর বিরুদ্ধে জয়ও কম খুশির নয়। বিশেষ করে আগের জমানায়, যখন পৃথিবীর জনসংখ্যা হঠাৎ হঠাৎ কমিয়ে দিয়ে যেত ভয়ংকর সব মহামারী। লোকেরা এই অভিশাপ ও দুর্ভোগের থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রার্থনা ও ইশ্বরের জন্য নানা ধরনের নৈবদ্য পেশ করত। বড় বড় শহর যেমন ভিয়েনার সান্তা মারিয়া দেল্লা সেল্যুট, চার্চ স্থাপন করে। ১৬২৯-৩১ সালে ইতালির প্লেগের পর এটি তৈরি হয়। কেউ কেউ আবার বিজয় স্তম্ভ তৈরি করত। এর মধ্যে সবচাইতে বিখ্যাত অষ্ট্রিয়ার ভিয়েনার প্লেগ কলাম বা পেসতসল।
দানিয়ুব নদীর তীরে ভিয়েনা ছিল পূব এবং পশ্চিমের মধ্যে বিখ্যাত এক বাণিজ্যকেন্দ্র। এটাই চৌদ্দ শতক থেকে ভিয়েনার জনসাধারণকে ভয়াবহ এক প্লেগের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। ব্যবসায়ীদের শহর হওয়ায়, দানিয়ূবের তীর ছিল পোশাক, কার্পেট এবং শস্যের ভাগাড়ে ভরপুর। এতে ইঁদুরদের আধিপত্য। শহরটাও ঘনবসতিপূর্ণ, মানুষ আবর্জনা ফেলত নদীতে, না হলে শহরের রাস্তায়। মধ্যযুগের ইয়োরোপে জীবনযাত্রা ছিল খুবই অস্বাস্থ্যকর। এটাও ওই সময় প্লেগ মহামারীর বারবার হানা দেওয়ার একটা বড় কারণ। ওই সময়ের অষ্ট্রিয়ার হাবসবার্গ শাসকদের রাজকীয় প্রাসাদ ছিল ভিয়েনায়ই। ১৬৭৯ সালের দিকে ভিয়েনার দোরগোড়ায় হাজির হলো প্লেগ।
অন্য আরো অনেক মহামারীর মতো গোড়ায় দরিদ্র এলাকাগুলোয় করাল থাবা বিস্তার করে মহামারী, তারপর ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে তুলনামূলক ধনী মানুষদের মধ্যেও। আক্রান্তের সংখ্যা বিপুল হারে বাড়তে থাকলে হাবসার্গ শাসক প্রথম লিওপোল্ড শহর থেকে পালান, তবে রাজকর্মচারীরা রোগ থেকে পুরোপুরি রক্ষা পেল না।
ভিয়েনায় মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে মারা পড়ে নিদেনপক্ষে ৭৬ হাজার মানুষ। মনে রাখতে হবে ওই সময় ভিয়েনার জনসংখ্যাই ছিল ১ লক্ষ ১০ হাজার। এবার নিশ্চয় বুঝতে পারছেন কতটা ভীতিপ্রদ ছিল রোগটা। মৃতদেহগুলো ঘোড়ার গাড়িতে করে শহরের বাইরে নিয়ে গিয়ে বিশাল খোলা গর্তে ফেলে জ্বালিয়ে দেয়া হতো। রোগ ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে লোকেরা এই কাজে রাজি হতে চাইত না। একপর্যায়ে উপায়ন্তর না দেখে জেল থেকে কয়েদীদের বাধ্য করা হয় এই কাজে। চিকিৎসকরা যেন পালাতে না পারেন তাই হাত বেধে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হতো। তবে একসময় বিদায় নিল অভিশপ্ত এই মহামারী। নগর কতৃপক্ষ হলি ট্রিনিটির (খ্রিস্টানদের মতে, ঈশ্বরের তিন সত্তা) প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি প্লেগ কলাম স্থাপন করার পরিকল্পনা করল। ওই বছরই কাঠের একটা স্তম্ভ বসানো হলো। সেখানে নয়জন দেবদূতের সঙ্গে হলি ট্রিনটিকে মূর্ত করে তোলা হলো। ১৬৮৭ সালে এর বদলে সেখানে স্থাপিত হলো আরো মজবুত একটি পাথরের মহামারী স্তম্ভ।
সতেরো শতকের শেষ অর্ধেকটায় অনেক অষ্ট্রিয়ান শহরেই প্লেগ স্তম্ভ ছিল বেশ সাধারণ ব্যাপার। প্লেগের সময় সাধারণত কাঠ দিয়ে বানানো হতো এই স্তম্ভগুলো। যদি কাঠের এই ইমারত কাজে দিত তবে ট্রিনটি এবং মা মেরির প্রতি সম্মান জানিয়ে স্থায়ি স্তম্ভ বানানো হতো। এই ধরনের প্লেগ স্তম্ভগুলোকে নানা শৈল্পিকরূপ দেয়া হতো। এর অনেকগুলোর নকশাই করেন ইতালীর লুদোভিকো বার্নাচিনি এবং অষ্ট্রিয় স্থপতি এবং ভাস্কর জোহান বার্নডি ফিসকার ভন এরলাচ। ভিয়েনার প্লেগ স্তম্ভের ভিত্তির ভাস্তর্যগুলোর নকশা করেন ফিসকার, এদিকে হলি ট্রিনটির নিচের দেবদূতদের ভাস্কর্য এবং প্রার্থনারত শাসক লিওপোল্ডের ভাস্কর্যের নকশা করেন বার্নাচসনি।
ইয়োরোপের অন্যান্য শহরগুলোতেও এ ধরনের প্লেগ স্তম্ভ দাঁড় করানো হয়। স্লোভাকিয়ার কসিসে ১৭০৯-১৯ এর প্লেগের পর একটি, মোটামুটি কাছাকাছি সময়ে চেক রিপাবলিকের কুতনা হোরায় একটি। ১৬৫০ সালে প্রাগের পুরনো টাউন স্কয়ারে এরকম একটি স্তম্ভ খাড়া করা হয়, তবে এটা হাবসবার্গদের প্রতীক মনে হওয়ায় ১৯১৮ সালে ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

Recommended For You

37 thoughts on “মহামারী স্তম্ভ

  1. best delta 8 says:

    Hello, There’s no doubt that your website may be having browser compatibility problems.
    Whenever I take a look at your web site in Safari,
    it looks fine however, if opening in I.E., it’s got some overlapping issues.
    I simply wanted to provide you with a quick heads up!
    Apart from that, great site!

    My web blog :: best delta 8

  2. You are so interesting! I do not suppose I’ve read through anything like this before.
    So good to discover someone with unique thoughts on this topic.
    Really.. thank you for starting this up. This site is one thing
    that is required on the web, someone with some originality!

  3. When I initially commented I appear to have clicked the -Notify me when new comments
    are added- checkbox and from now on each time a comment is added I
    get 4 emails with the same comment. Is there an easy method you
    can remove me from that service? Many thanks!

    Here is my web-site: delta 8 gummies

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *