Sponser

পাবলো নেরুদা: কাল-পরিক্রমা

কিংবদন্তি
PUBLISHED: September 23, 2020

১৯০৪. ১২ জুলাই চিলির পাররাল শহরে জন্ম নিলেন পাবলো নেরুদা। তখন তাঁর নাম ছিল নেফতালি রিকার্ডো রেইয়েস বাসোয়ালতো। জন্মের মাত্র দুই মাস দুই দিনের মাথায় মারা যান তাঁর স্কুলশিক্ষক মা।
১৯০৬. বাবার সঙ্গে টেমুকোতে চলে এলেন নেরুদা।
১৯১৭. দৈনিক লা মানিসয়ানায় প্রকাশিত হলো প্রথম কবিতা।
১৯২০. পাবলো নেরুদা ছদ্মনামে সাহিত্য সাময়িকী সেলভা অস্ট্রাল-এ প্রদায়ক হিসাবে লিখতে শুরু করলেন। ছদ্ম পরিচয় গ্রহণের কারণ তাঁর রেল-কর্মচারী বাবা। সাহিত্যের প্রতি ছেলের আগ্রহ দু-চোখে দেখতে পারতেন না।
কবিতার জন্য প্রথম পুরষ্কার লাভ।
১৯২১. ফরাসি সাহিত্যের শিক্ষক হওয়ার জন্য সান্টিয়াগো গিয়ে কলেজে ভর্তি হলেন। কিন্তু সাহিত্যে আরো বেশি সময় দেওয়ার জন্য অল্প কিছুদিনের মধ্যে কলেজ ছাড়লেন।
১৯২৩. ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রকাশিত হলো প্রথম কবিতার বই ক্রেপুস্কলারিও (টুয়াইলাইট বুক)
১৯২৪. বের হলো প্রেমের কবিতার বই টুয়েন্টি লাভ পয়েমস অ্যান্ড এ ডেসপারেট সং। অতিরিক্ত শরীরী ভালবাসার উপস্থিতি রক্ষণশীল মহলে ব্যাপক তর্ক-বিতর্কের জন্ম দিলেও পাঠক-সমালোচক মহলে দারুণ প্রশংসিত হলো বইটি। পরে অনেক ভাষায় অনুবাদ হওয়া বইটি কয়েক বছরে বিক্রি হয় লাখ লাখ কপি।
১৯২৭. আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত নেরুদা অনেকটা বাধ্য হয়ে দূতাবাস কর্মকর্তার চাকরি নিয়ে চলে এলেন ঔপনিবেশিক বার্মার রেঙ্গুনে।
পরের কয়েক বছর দায়িত্ব পালন করলেন কলম্বো, জাভা, সিঙ্গাপুর, বুয়েন্স আইরেস, বার্সেলোনা আর মাদ্রিদে। দূতাবাসে চাকরির এই কঠিন সময়েই সুররিয়ালিস্টিক কবিতা রেসিডেন্স অন আর্থ-এর প্রথম দুটো খন্ড রচনা করলেন। অবিসংবাদিতভাবে যাবে বলা হয় স্প্যানিশে রচিত শেষ্ঠ সুররিয়ালিস্টিক কাজ।
১৯৩০. ওলন্দাজ মারিয়া হেজেনারকে বিয়ে করলেন। জাভায় এই ব্যাংকারের সঙ্গে তাঁর পরিচয়।
১৯৩০. কবি ফেদরিকো গার্সিয়া লোরকার সঙ্গে পরিচয়।

১৯৩৬. স্পেনের গৃহযুদ্ধ শুরু। খুন হলেন লোরকা। গৃহযুদ্ধ আর লোরকার হত্যাকাণ্ড প্রবল প্রভাব বিস্তার করল তাঁর ওপর, যা আরো বেশি করে রাজনীতিতে উৎসাহী করে তুলল। যোগ দিলেন ফ্রাঙ্কো বিরোধী রিপাবলিকান আন্দোলনে। প্রথমে স্পেনে, তারপর ফ্রান্সে।
১৯৩৭. ফিরে এলেন দেশে।
১৯৩৯. প্যারিসে স্পেনীয় অভিবাসীদের বিশেষ দূত হলেন নেরুদা। সেখানে মানবেতর জীবন-যাপন করা দুই হাজার স্পেনীয় রিপাবলিকান উদ্বাস্তুকে চিলিতে পুনর্বাসনে সাহায্য করলেন।
১৯৪০. মেক্সিকোতে কনসাল জেনারেল থাকা কালে নতুন করে লিখতে শুরু করলেন কান্টো জেনারেল। এতে উঠে এলো গোটা দক্ষিণ আমেরিকার মানুষ আর প্রকৃতি। পরে এটি ১৯৫০ সালে এটি মেক্সিকো থেকে প্রকাশিত হয়।
১৯৪৩. নাৎসি নিয়ন্ত্রিত নেদারল্যান্ডসে ৮ বছর বয়সে মারা গেল কবিকন্যা মালবা। চিলিতে প্রত্যাবর্তন। কিছুদিন পরই পেরু ভ্রমণ করলেন নেরুদা, দেখলেন ইনকা নগর মাচু পিচু। হেজেনারের সঙ্গে বিচ্ছেদ। আবার বিয়ে পিড়িতে বসলেন, পাত্রী দলিয়া দেল কারলি।
১৯৪৫. মাচু পিচুতে অনুপ্রাণিত হয়ে রচনা করলেন ১২ অধ্যায়ের কবিতা আলতুরাস দি মাচু পিচু।
৪ মার্চ রুক্ষ, জনবিরল আতাকামা মরুভ‚মির আনতোফাগাস্তা আর তারাপাকা প্রদেশে কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে সিনেটর নির্বাচিত হলেন। চার মাস পর আনুষ্ঠানিকভাবে চিলির কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান।

১৯৪৬. চিলির রেডিক্যাল প্রার্থীর প্রেসিডেন্ট পদপার্থী গ্যাব্রিয়েল গানসালেসের অনুরোধে তার হয়ে প্রচারণা শুরু করলেন নেরুদা। কিন্তু ক্ষমতায় এসেই কমিউনিস্টদের বিরোধিতা শুরু করলেন গনসালেস। নেরুদার রচনার প্রতি জারি হলো নিষেধাজ্ঞা।
১৯৪৮. গনসালেস সরকারের শ্রমিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে সংসদে ৬ জানুয়ারি এক জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিলেন নেরুদা। নেরুদার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেন আদালত। দলের বিভিন্ন ভক্তের বাসায় আত্মগোপন করে থাকতে বাধ্য হলেন নেরুদা এবং তাঁর স্ত্রী। লকিয়ে থাকা অবস্থাতেই নিষিদ্ধ হলো কমিউনিস্ট পার্টি, বাতিল হলো তাঁর সিনটর পদ।
১৯৪৯. ঘোড়ায় চেপে আন্দিজ ডিঙিয়ে চলে গেলেন আর্জেন্টিনা। বুয়েন্স আইরেসে গুয়াতেমালা দূতাবানের কালচারাল অ্যাটাসে মিগুয়েল আস্টুরিয়াস (পরে নোবেল বিজয়ী ঔপন্যাসিক) ছিলেন তাঁর বন্ধু। তাঁদের চেহারায়ও ছিল ভারি মিল। তাঁর পাসপোর্ট নিয়েই গোপনে ফ্রান্সে চলে গেলেন নেরুদা। প্যারিসে প্রবেশের ব্যবস্থা করলেন পাবলো পিকাসো। পরের তিন বছর ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, ভারক, চীন আর সোভিয়েত ইউনিয়নে ঘুরে বেড়লেন নেরুদা।
মেক্সিকো ভ্রমণের সময় তাঁর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা চিলিয়ান গায়িকা মাতিল্দে উররুতিয়ার সঙ্গে প্রেম। উররুতিয়ায় অনুপ্রাণিত হয়ে লিখলেন লস ভার্সোস ডেল কাপিটান। পরে ১৯৫২ সালে এটি বেনামে প্রকাশ করেন।
১৯৫০. বিশ্ব শান্তি পুরস্কার লাভ।
১৯৫২. দূর্নীতির কারণে গননসালেস সরকারের বেহাল দশা, প্রত্যাহার হলো নেরুদার গ্রেপ্তারাদেশ। আগস্টে ফিরলেন চিলিতে।
১৯৫৩. লেনিন শান্তি পুরস্কার লাভ।
১৯৫৫. উররুতিয়ার সঙ্গে নেরুদার সম্পর্কের কথা জানতে পেরে ইউরোপ ফিরে গেলেন দালিয়া কাররিল।
১৯৬৪. নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত পুরস্কার জিতলেন জাঁ পল সার্ত্র।
১৯৬৫. অক্সফোর্ড থেকে সাহিত্যে ডক্টরেট।
১৯৬৬. কাররিলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ছাড়াছাড়ি। বিয়ে করলেন দীর্ঘদিনের প্রেমিকা উররুতিয়াকে। নিউইয়র্ক সিটিতে আন্তর্জাতিক পেন অধিবেশনে যোগদানের আমন্ত্রণ পেলেন নেরুদা। একজন কমিউনিস্ট হিসাবে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দিতে চায়নি মার্কিন কতৃপক্ষ। তবে আয়োজক নাট্যকার আর্থার মিলার শেষ পর্যন্ত জনসন সরকারকে ভিসা দিতে রাজি করান। মেক্সিকান লেখক কার্লোস ফুয়েন্তেস পরে এই পেন অধিবেশনকে স্নায়ুযুদ্ধ অবসানের সূচনা হিসাবে উল্লেখ করেন। ফিরতি পথে পেরুতে উল্লসিত জনতার সঙ্গে কবিকে অভ্যর্থনা জানালেন প্রেসিডেন্ট স্বয়ং।

১৯৬৭. বলিভিয়ায় চে গুয়েভেরার মৃত্যুর পর এই মহান বীরের স্মরণে বেশ কিছু নিবন্ধ লিখেন নেরুদা।
১৯৭০. চিলির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কমিউনিস্ট পার্টির মনোনয়ন পেয়েও বন্ধু সালভাদর আলেন্দের সমর্থনে সরে দাঁড়ালেন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তাঁকে ফ্রান্সে চিলির রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত করলেন আলেন্দে।
১৯৭১. শেষ পর্যন্ত বহু কাঙ্খিত নোবেল জিতলেন নেরুদা।
১৯৭২. ফ্রান্সে আড়াই বছর দায়িত্ব পালনের পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিলি ফিরে আসতে বাধ্য হলেন।

১৯৭৩. ১১ সেপ্টেম্বর জেনারেল পেনেশের নেতৃত্বে এক সামরিক অভ্যুত্থানে ভেঙে যায় সমাজতান্ত্রিক চিলির স্বপ্ন।
অল্প কয়েক দিন পরেই নেরুদার উপস্থিতিতে তাঁর ইসলা নেগরার বাড়ি আর সম্পত্তিতে তল্লাশি চালাল সেনাবাহিনী। সেখানে নেরুদা দ্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষনা করলেন, ‘ভালো করে দেখো, এখানে তোমাদের জন্য বিপজ্জনক একটা জিনিসই আছে, কবিতা।’
২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় হ্নদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিলেন পাবলো নেরুদা।

Recommended For You

12 thoughts on “পাবলো নেরুদা: কাল-পরিক্রমা

  1. fun-88 says:

    This post is genuinely a fastidious one it helps new net visitors, who are wishing for blogging.

  2. Hi to all, it’s truly a fastidious for me to go to see this site, it consists of important
    Information.

  3. Davidnig says:

    Fireboy and Watergirl 4 |Gameplay walkthrough Fireboy and Watergirl 4 |Gameplay walkthrough After they both regain consciousness, the two take a white rabbit game fireboy and watergirl 4 poki casumo on the couch to watch book of ra casino hard rock hotel casino miami week. Fireboy and Watergirl 4: in the Crystal Temple – Gameplay – Video Tutorial Fireboy and Watergirl are on an isolated island. Help them to collect gems and to avoid dangerous animals. Outlast your opponents in the ultimate copter arena. Grab upgrades and superpowers, avoid the toxic fog, and be the last one flying! https://seliniotakis.gr/community/profile/annettarand6283/ Tough, and create the other! Jump to achieve a few posted online games every day! Simulator gems:. Find your dating sims simulation games for boys and kongregate free online who is to see top do virtual meet the largest free; hot date! A stalker-filled twist on the dating simulator genre that pits its female protagonist against an entirely male programming class. Spend your semester fighting against sexism like your academic career depends on it (and it kind of does). Play all the best games for girls in one place!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *